সাম্প্রতিক সংবাদ

মৃত্যুর ২০ বছর পরেও আলোচনায় নায়ক সালমান শাহ। কেন তিনি এত জনপ্রিয় ছিলেন?

500x350_a9c7e4cba07b706abfb3068511bf1ce4_salman9874

বিডি নীয়ালা নিউজ (০৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৬)- বিনোদন ডেস্কঃ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর দিনটি ছিল শুক্রবার। সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরীকে টেলিফোন করে বলা হলো তার ছেলের বাসায় যেতে। টেলিফোন পেয়ে নীলা চৌধুরী দ্রুত ছেলে সালমান শাহ’র বাসার দিকে রওনা হয়েছিলেন।

তবে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে ছেলের মৃতদেহ দেখতে পান নীলা চৌধুরী। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়কের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো দেশ।

তার মৃত্যুর সংবাদ দর্শকদের মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে ২০ বছর পরেও অনেকে প্রিয় নায়ককে ভুলতে পারেনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নব্বই’র দশকের এই তুমুল জনপ্রিয় নায়কের ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করছে তার ভক্তরা। সালমানের মৃত্যুর দুই দশক পরেও তাকে নিয়ে দর্শকদের মাঝে আলোচনা থামেনি।

কিন্তু সালমান শাহ’র বিশেষত্ব কী ছিল? কেন তিনি এতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন?

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক এবং বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জাকির হোসেন রাজু মনে করেন, সালমান শাহ যে সময়টিতে অভিনয়ে এসেছিলেন, তখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পালাবদলের সময়।

১৯৯২ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ। জনপ্রিয় একটি হিন্দি সিনেমার অফিসিয়াল রিমেক ছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’।

এ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেন সালমান। পর্দায় তার পোশাক-পরিচ্ছেদ, সংলাপ বলার ধরন, অভিনয় দক্ষতা সবকিছু মিলিয়ে দর্শকের মনে স্থান করে নিতে সময় লাগেনি এ নায়কের। বাংলাদেশের সিনেমায় তিনি ‘রোমান্টিক হিরো’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সালমান শাহকে নিয়ে ফেসবুকে অনেকে তাদের মূল্যায়ন তুলে ধরছেন। সাফিন জাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন , ” আহ কী সেই নায়ক, কী তার অভিনয়, কী তার স্টাইল।”

সালমান শাহ-এর মৃত্যুর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ময়না তদন্তে বেরিয়ে আসে যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কিন্তু তার পরিবার সেটি বিশ্বাস করতে পারেনি। পরিবারের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। সেখানেও বলা হয়েছিল যে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছে।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে মামলার কাজ সেখানেই থেমে যায়।

মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমা করে ১৯৯০’র দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আলোড়ন তুলেছিলেন নায়ক সালমান শাহ। ২৭টি সিনেমার বেশিরভাগই ছিল আলোচিত এবং ব্যবসা সফল ছবি।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক মি: রাজু বলছিলেন, ১৯৭০ -৮০’র দশকের নায়কদের পরে চলচ্চিত্রে সালমানের আবির্ভাব তারুণ্যের উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল।

নায়ক রাজ্জাক, আলমগীর এবং ফারুকের পর নতুন একদল তরুণ নায়কের আবির্ভাব হয়েছিল ঢাকার চলচ্চিত্রে।

নব্বই’র দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যত নায়কের আবির্ভাব হয়েছিল তাদের মধ্যে সালমান শাহ সবচেয়ে বেশি প্রমিজিং ( প্রতিশ্রুতিশীল) ছিলেন বলে উল্লেখ করেন মি: রাজু।

তার বর্ণনায়, সালমান শাহ’র অভিনয়ের মধ্যে দর্শক একটা ভিন্নধারা খুঁজে পেয়েছিল।

অনেকে সালমান শাহ’র মধ্যে বলিউড নায়কদের ছায়া খুঁজে পেয়েছিল।

দর্শকদের বর্ণনাতে সে কথা পরিষ্কার। ফেসবুকে মাসউদুর রহমান লিখেছেন, ” সালমান শাহ। এমন স্মার্ট সুদর্শন নায়ক আগে দেখেনি ঢাকাইয়া সিনেমা।”

 

 

বিবিসি

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
shared on wplocker.com