সাম্প্রতিক সংবাদ

নারীরা কেনো আই এসে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাচ্ছে

160118090744_britain_muslim_640x360_getty

বিডি নীয়ালা নিউজ(৩০জানুয়ারি১৬)- আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনঃ ব্রিটেন থেকে অর্ধশতাধিক নারী ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে সিরিয়ায় চলে গেছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের বেশিরভাগকেই রিক্রুট করা হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে। এদের মধ্যে বাংলাদেশীদের সংখ্যাও নেহায়েতই কম নয়। বলা হয়, এই নারীদের পরিণতি জিহাদিদের যৌনদাসী হিসেবে। তারপরেও নারীরা কেনো আই এসে যোগ দিতে যুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় চলে যাচ্ছে? এবিষয়ে ব্রিটেনে বাংলাদেশী পরিবারগুলো কতোটা সচেতন ?­_

পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকার একটি স্কুল- বেথনাল গ্রিন একাডেমি। দিনটি ছিলো ২০১৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি। অন্যান্য দিনের মতো ক্লাস চলছিলো – কিন্তু সেদিন তিনটি মেয়ে স্কুলে আসেনি।

জানা গেলো ওরা সিরিয়ার পথে। তুরস্কের সীমান্ত পার হয়ে যাচ্ছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে। তারা হচ্ছেন – শামীমা বেগম, আমিরা আবাসী এবং খাদিজা সুলতানা। বয়স ১৫ থেকে ১৭।

তাদের পরিবারের সদস্যরা একদিন আগেও এবিষয়ে কিছুই বুঝতে পারেনি। আমিরার হতচকিত বাবা বলেছেন, সবকিছুই খুব স্বাভাবিক ছিলো। তার চলাফেরা থেকে কিছুই বোঝা যায়নি।

“ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ও শুধু বললো বাবা, আমার একটু তাড়া আছে। ও শুধু একটা টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিলো- বাবা আমি একটু দূরে আছি। জোহরের নামাজ পরেই চলে আসবো। তোমরা চিন্তা করো না। কিন্তু ও আর ফেরেনি।”

এই শামীমা, খাদিজা আর আমিরার মতো ৫০ থেকে ৬০ জন নারী ব্রিটেনের গ্লাসগো থেকে ব্রিস্টল, ব্রাইটন থেকে লন্ডন এরকম বিভিন্ন শহর থেকে পাড়ি দিয়েছে যুদ্ধ কবলিত সিরিয়ায়। সরকারি হিসেবে তাদের সংখ্যা ৫৬।

সিরিয়া, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারী আই এসে যোগ দিয়েছে ইউরোপ থেকে যাওয়া বহু তরুণ। শুধু ব্রিটেন থেকেই গেছে পাঁচশোর মতো, যার ১০ শতাংশেরও বেশি নারী।

ইসলামী উগ্রপন্থা প্রতিরোধে ব্রিটেনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান – কুইলিয়াম ফাউন্ডেশন। তারই একজন গবেষক নিকিতা মালিক বলেছেন, অনেক সময় নিয়ে, প্রচুর গবেষণার পরেই তারা ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে সিরিয়ায় যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন থেকে যে মেয়েগুলো গিয়েছে, তাদের একজন একশোটিরও বেশি জিহাদি ওয়েবসাইট ঘাটাঘাটি করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটেনে এধরনের কিছু নারীর সাথে আই এসের যোগাযোগও আছে। তাদের সাথে ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা হয়। আলোচনা হয় সমাজে নারীর অবস্থা নিয়ে।”

তিনি বলেন, এই মেয়েরা মনে করছে, আই এস তাদেরকে মর্যাদা দিচ্ছে, তারাও জিহাদে সমান অংশ নিতে পারছে, তাদের কিছুটা ক্ষমতায়ন ঘটছে যা আগে কখনো ছিলো না।

“তাদেরকে যে শুধু অস্ত্র হাতে যুদ্ধে যেতে হবে তা নয়। আগামী প্রজন্মের মুজাহিদিনকে শিক্ষিত করে তোলা এবং জিহাদিদের ভালো স্ত্রী হয়ে উঠাও তাদের ধর্মীয় একটি দায়িত্ব বলে তারা মনে করে।”

অল্পবয়সী মেয়েদের পাশাপাশি মায়েরাও যাচ্ছেন। এক বছরের শিশু সন্তান থেকে শুরু করে সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ পিতাকে নিয়েও চলে গেছেন অনেকে গেছেন স্বামী সংসার ফেলেও।

বলা হয়, এইসব নারীর পরিণতি: জিহাদি যোদ্ধাদের যৌনদাসী। তারপরেও কেনো যাচ্ছে তারা?

কুইলিয়াম ফাউন্ডেশনের নিকিতা মালিক মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে মেয়েরা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তারাও কোনো একটা কাজে অংশ নিতে পারছে। পুরুষ যোদ্ধাদের মতো তারাও মনে করে পশ্চিমা দেশগুলো ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং ইসলামিক স্টেটের হয়ে যুদ্ধ করতে পারলে তারা ভালো মুসলিম হতে পারবে। একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তারা রাখতে পারছে সমান ভূমিকা।”

“এছাড়াও আরো কিছু বিষয় আছে যেগুলো তাদেরকে ইসলামিক স্টেটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যেমন তারা হয়তো মনে করছে সমাজে বা কমিউনিটিতে তারা নিজেদেরকে ঠিকমতো মানাতে পারছে না,” বলেন তিনি।

গবেষকরা বলছেন, আই এসে বেশকিছু নারী যোদ্ধা আছে যাদের কাজ অনলাইনের মাধ্যমে নতুন নতুন মেয়ে সংগ্রহ করা। টুইটারের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কে এই অভিযান চালায় তারা। ধারণা করা হয়, গ্লাসগো থেকে যাওয়া একটি মেয়ের সাথে অনলাইনে পরিচয়ের পরেই বেথনাল গ্রিনের একটি মেয়ে সিরিয়ায় চলে গেছে।

গবেষকরা বলছেন, সিরিয়াতে যাওয়া হচ্ছে এই মেয়েদের কারো কাছে অ্যাডভেঞ্চার আবার কারো কাছে রোমান্টিক এক অভিজ্ঞতা।

তাদেরকে বলা হয় কিভাবে পুরোটা পথ পাড়ি দিতে হবে, পিতামাতাকে লুকিয়ে কিভাবে অর্থ পরিশোধ করতে হবে, বিমানের টিকেট কিভাবে এবং কোন ট্রাভেল এজেন্টের কাছ থেকে কাটতে হবে, যুক্তরাজ্যে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে- এসব।

“তাদের বিয়ের কথাও আগাম বলে দেওয়া হয়। মেয়েরা ভালো করেই জানে তারা যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছাবে তাদেরকে বিয়ে করা হবে। আগে থেকেই তাদেরকে ধারণা দেওয়া হয় সে কাকে বিয়ে করবে, তার ওই স্বামী কেমন, ওখানে গেলে সে কাজ করতে পারবো কীনা, একজন শিক্ষক হতে পারবো কীনা, ওখানে তার ভূমিকা কি হবে- এসব বিষয়ে তাদেরকে একটা প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়,” নিকিতা মালিক বলেন।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

shared on wplocker.com