Thursday, 05 March 2026, 04:57 PM

ইরানি কর্মকর্তাদের টার্গেটকৃত হত্যাকাণ্ডে ‘স্তম্ভিত’ জাতিসংঘ তদন্ত মিশন

ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে নিয়োজিত জাতিসংঘ-নিযুক্ত তদন্তকারীরা দেশটির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চালানো প্রাণঘাতী হামলায় গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, বিচার প্রতিষ্ঠার উপায় হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত স্বাধীন আনতর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন বুধবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানায়, যা শনিবার থেকে শুরু হয়েছে।

তদন্ত মিশন জানায়, লক্ষ্যভিত্তিক মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের কয়েক ডজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, এ ঘটনায় তারা ‘স্তম্ভিত’।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যদি ধরে নেওয়া হয় যে নিহতদের কেউ কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন বা আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ী ছিলেন, তবুও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিচারবহির্ভূতভাবে জীবন হরণ কখনোই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গ্রহণযোগ্য উপায় নয়।’

তদন্তকারীরা বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের বিধান কোনো রাষ্ট্রের পদক্ষেপের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে না।

মিশন জানায়, ইরানের জনগণ এখন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছেন, একদিকে এমন একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান যা সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে পারে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি সরকার।

তদন্তকারীরা তেহরানকে সাম্প্রতিক টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘এই বন্ধের ফলে ইরানি জনগণ বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সারা দেশে হামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হারিয়েছে।’

তিন সদস্যের এই মিশনের দায়িত্ব হলো ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ২০২২ সালের নভেম্বরে ইরানে চলমান গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে এই উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান শুরু করে। সে সময় মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল।

তদন্ত মিশন ইরানের কারাগারগুলোর পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া নতুন করে গণবিক্ষোভের ঘটনায় আটক ‘দশ হাজারেরও বেশি’ বন্দির বিষয়ে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমানে আটক বিক্ষোভকারী ও অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তিদের ঝুঁকি বিবেচনায়, ২০২৫ সালের ২৩ জুন তেহরানের ইভিন কারাগারে ইসরাইলি সামরিক হামলার মতো ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’

তদন্ত সংস্থা যুদ্ধের ফলে বেসামরিক হতাহতের প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।

তারা বলেন, ‘যাদের প্রভাব রয়েছে, তাদের সবাইকে এই যুদ্ধ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’bss

// Disable right-click context menu // Disable text selection // Disable dragging of images and text // Disable copy events // Disable common keyboard shortcuts for copying // Check for Ctrl/Command key combinations with C, X, S, or P