সাম্প্রতিক সংবাদ

কিশোরগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সারোভাষা ব্রীজে ধস, হুমকির মুখে কোটি টাকার ব্রীজ

মাফি মহিউদ্দিন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নে বগুলাগাড়ী সারোভাষা ব্রীজের নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রীজটি হুমকির মুখে পড়েছে। বালু ব্যাবসায়ীরা দিনে ও রাতের বেলা ব্রীজের দুপাশে ৫শ গজের মধ্যে ও ব্রীজের নিচ থেকে মাহিন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ব্রীজের পুর্ব কোনে এ্যাপ্রোস ধসে গেছে। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে ব্রীজটি।

সরেজমিনে গিয়ে ও উপজেলা প্রকৌশল অফিস সুত্রে জানা গেছে, বাহাগিলি, চাঁদখানা ও মাগুড়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউপি অফিস হইতে কেল্লাবাড়ি হাট ভায়া দর্জিটারী বুড়ির হাট সারোভাষা ঘাটের চাঁড়ালকাঁটা নদীর উপর ১৪০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করে বর্তমান সরকার, ব্রীজটি নির্মানের ফলে চাঁদখানা ও মাগুড়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ খুব সহজেই পাশ্ববর্তী রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ব্রীজটি নির্মানের পর থেকে চাঁদখানা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন চাঁদখানা সারোভাষা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে কাশেম মিয়া, একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আলী মামুদের ছেলে হাফেজ মিয়া, বদিয়ার রহমানের ছেলে কিবরিয়া এবং আবুল হোসেনের ছেলে হানিফ দীর্ঘদিন থেকে ব্রীজের উত্তর দিকে ও দক্ষিন দিকে ৫শ গজ সীমানার মধ্যে ও ব্রীজের নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রীজের নিচের বালু সরে গিয়ে ব্রীজের পুর্ব কোনের এ্যাপ্রোস ধসে গেছে। এতে হুমকীর মুখে রয়েছে ব্রীজটি ফলে যে কোন মুহুত্বে ব্রীজটির বড় ধরনের ক্ষতির আশংঙ্খা করছে এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঁদখানা ইউনিয়নের এক আওয়ামীূলীগ নেতা বলেন, দক্ষিন চাঁদখানা সারোভাষা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে ও বালু ব্যাবসায়ী কাশেম তাঁর নিজের তিনটি মাহিন্দ্র ট্রাক্টর সহ ভাড়া করা ২০টি মাহিন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ ট্রলি বালু বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে । এছাড়াও বরবালা গ্রামের কাদের আলীর ছেলে ইব্রাহীম, বগুলাগাড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে হাফেজ উদ্দিন ও আব্দুল হানিফ, একই গ্রামের বদির উদ্দিনের ছেলে কিবরিয়া সহ বালু ব্যবসায়ীরা ব্রীজের উভয়পাশে ব্রীজের নিচে ও ব্রীজের ৫০০ গজ সীমানার মধ্যে শত শত ট্রলি দিয়ে দিনরাত সমান তালে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রীজটি হুমকির মুখে পড়েছে।

ব্রীজের দক্ষিন পাশ্ব থেকে বালু উত্তোলন কারী হানিফ ও কিবরিয়া বলেন, ভাই আমরা নিজের জমি থেকে বালু উত্তোলন করছি। আমাদের জমিগুলো ব্রীজের কাছাকাছি গত কয়েক বছর আগে আমরা সেগুলো চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে সব কাগজপত্র ঠিক করে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বালু বিক্রি করছি। এতে করে টাকাও পাচ্ছি জমিও বালুমুক্ত হচ্ছে।

অপর বালু ব্যাবসায়ী হাফেজ ও ইব্রাহিম বলেন, সবার আগে কাশেম ব্রীজের নিচ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। আমরা ব্রীজের অনেক দুর থেকে বালু উত্তোলন করছি তাতে ব্রীজের কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ব্রীজের নিচ থেকে এবং ব্রীজের উত্তর পাশ্ব থেকে বালু উত্তোলনকারী বালু ব্যবসায়ী কাশেম বলেন, ভাই আমি যেভাবে বালু তুলছি তাতে ব্রীজের কোন ক্ষতি হবেনা। তারপরও আমি বালু বিক্রি করে যে টাকা পাই তা প্রশাসনকে ভাগ দেই।

চাঁদখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রীজের পুর্ব দিকে এ্যাপ্রোস ধসে গেছে। কে কে বালু উত্তোলন করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারা বালু উত্তোলন করছেন আমি জানিনা। তবে ব্রীজটি রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে বলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। ব্রীজের পুর্ব কোনের এ্যাপ্রোস ধসে যাওয়া ব্রীজের নিচ থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সারোভাষা ব্রীজের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা বিষয়টি আপনি আমাকে আরো আগে বলতে পারতেন। তবে তিনি আরো বলেন, কয়েকদিন আগে বাহাগিলি ষ্টিল ব্রীজের নিচ থেকে বালু উত্তোলনের সময় সেখানে অভিযান চালালে সবাই পালিয়ে গেছে।। ব্রীজ রক্ষার সার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
shared on wplocker.com