সাম্প্রতিক সংবাদ

স্বামী বা স্ত্রী কেমন হবে তা জানতে গোয়েন্দা ভাড়া?

wedding

বিডি নীয়ালা নিউজ(২৮ই ফেব্রুয়ারী১৬)-আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনঃ আপনার ভবিষ্যত স্বামী বা স্ত্রী কেমন হবে, সেটা জানার জন্যে কি আপনি গোয়েন্দা ভাড়া করবেন? এখন সেটাই করছেন অনেক ব্রিটিশ এশিয়ান পরিবার।

প্রাইভেট গোয়েন্দারা বলছেন, তাদের মোট ব্যবসার অর্ধেকটা এই খাত থেকেই আসে।

এসব কাজের মধ্যে রয়েছে তার অতীত অনুসন্ধান, ব্যক্তিগত নানা তথ্য সংগ্রহ আর প্রেমট্রেম আছে কিনা, সেটা জানা।

এটা ভারতে শুরু হলেও, এখন ব্রিটেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কারণ একেকটি এশিয়ান বিয়ের পেছনে অন্তত পঞ্চাশ হাজার ডলার খরচ হয়।

এক শীতের শনিবারে, মিডল্যান্ডের একটি বারে কুড়ি বছর বয়সী একজন এশীয় যুবকের বিষয়ে খোজ খবর নিতে এসেছেন কয়েকজন ব্যক্তিগত গোয়েন্দা।

কারণ এই যুবকের সঙ্গে ভারতীয় এক তরুণীর পারিবারিকভাবে বিয়ের কথাবার্তা চলছে। কিন্তু হবু বর কেমন, তা জানতে চায় মেয়েটির বড় বোন। বড় বোন সুকি বলছেন, “সবচেয়ে যে বিষয়ে আমি নিশ্চিত হতে চাই, তা তার বিশ্বাসযোগ্যতা। সে কি সত্যিই বিয়ের বিষয়ে সিরিয়াস, নাকি বিষয়টিকে সে নিছক একটি আনন্দ হিসাবে নিচ্ছে, সেটা জানা দরকার”।

160228024810_marriage_matchmaking_service_624x351_bbc_nocredit

“আমি চাই না, সে আমার বোনকে শুধুমাত্র এ কারণেই বিয়ে করুক, যাতে সে অন্যদের দেখাতে পারে যে, সে বিয়ে করেছে আর তার মায়ের জন্য একজন পূত্রবধু নিতে পারছে। যা অনেক ছেলেই করে থাকে”।

সাধারণত গোপনে, ছদ্মবেশে এরকম অনুসন্ধান করে থাকে প্রাইভেট গোয়েন্দারা। টার্গেট সম্পর্কে যতটা সম্পর্ক তথ্য নিয়ে তারা কাজ করতে শুরু করে।

দুইদিনের এই অনুসন্ধানের জন্য চারজন গোয়েন্দার খরচ, গাড়িভাড়া, প্রমান সংগ্রহ ইত্যাদি কাজে সুকিকে কয়েকশ পাউন্ড গুনতে হয়েছে।

ভবিষ্যত বর কেমন হবে, তার অতীত এবং বর্তমানের কর্মকান্ড জানার জন্য অনেক পরিবারই এই অর্থ খরচ করতে রাজি।

এরকম একটি প্রাইভেট গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রাজ সিং বলছিলেন, “এখানে আসলেই অনেক ভীতির ব্যাপার রয়েছে। সম্পর্ক করার সময় অনেকেই অনেক উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে। কিন্তু ভালো ব্যাপার হলো, এখন অনেকেই সচেতন হয়ে উঠছে। তারা এসব বিষয় যাচাই করে দেখতে চায়। তারা জানতে চায়, সে মদ্যপান করে কিনা, সিগারেট খায় কিনা, কাদের সঙ্গে মেশে, কোথায় কোথায় যায়, কেমন চাকরি করে, অন্য কোন নেশা করে কিনা। বারে মেয়েদের সঙ্গে মেশে কিনা। এসবই তারা জানতে চায়”।

কিন্তু আপনি কি মনে করেন, একজন সম্পর্কে গোপনে এসব তথ্য সংগ্রহ, নৈতিকভাবে ঠিক? কারণ এর ফলে অনেকের হয়তো বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে, বা সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
shared on wplocker.com