সাম্প্রতিক সংবাদ

সাপের দ্বীপ ‘লা দ্য কুইমাদা গ্রানাদে’

sap-1

বিডি নীয়ালা নিউজ(৪ মার্চ১৬)-ট্রাভেল প্রতিবেদনঃ অবসর কাটাতে নিরিবিলি আর প্রকৃতির কাছাকাছি জায়গাগুলোই বেশি পছন্দ ভ্রমণপিয়াসুদের। জায়গাগুলো যদি হয় সমুদ্র, পাহাড় কিংবা দ্বীপ তবে তো কোন কথাই নেই। সেই রকম এক সৌন্দর্যের আধার ব্রাজিলের ‘লা দ্য কুইমাদা গ্রানাদে’ দ্বীপ।

এটুকুই শুনেই যেন ছুটে যাবেন না দ্বীপটির দিকে। কারণ, সৌন্দর্যের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বিপদের হাতছানি।‘লা দ্য কুইমাদা গ্রানাদে’ দ্বীপকে আদর করে আপনি সাপের দ্বীপ নামেও ডাকতে পারেন। তাতে কোন ভুল হবে না। সারা দ্বীপ জুড়ে কিলবিল করছে হাজার হাজার সাপ। ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ। একসময় এই দ্বীপে কলা চাষের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু মাঝ পথেই সাপের উপদ্রপে বন্ধ হয়ে যায় কলা চাষ। পরবর্তীতে এই কলা দ্বীপ পরিণত হয় ‘সাপের দ্বীপে’।

sap

‘লা দ্য কুইমাদা গ্রানাদে’ দ্বীপের মোট আয়তন প্রায় ২০ মাইল। পুরো দ্বীপে কেবল সাপের বিচরণ। সাপ ছাড়া এই দ্বীপে অন্য কোনো প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া বেশ দুষ্কর। বোথরোপস ইনসুলারিস নামের সাপগুলো অন্য আট দশটি বিষধর সাপের থেকে ৫ গুণ বেশি বিষধর। বোথরোপস সাপের বিষক্রিয়ায় মানুষের মাংস কয়েক মিনিটের মধ্যে গলে যায়। তাতে মৃত্যু অবধারিত। এরা লম্বায় ২৮ ইঞ্চি থেকে ৪৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। উজ্জ্বল হলুদাভ ও বাদামী গায়ের রঙের সাপগুলোর মাথা প্রচন্ড তীক্ষ্ণ বিধায় এদেরকে লানচিহেড ভাইপারও বলা হয়। উড়ন্ত পাখিকে লাফ দিয়ে ধরে এরা সহজেই নিজের শিকার বানাতে পটু। এরা ক্ষুধা মেটাতে অন্য প্রাণী তো বটেই নিজ প্রজাতি ছাড়া অন্য প্রজাতির সাপও গিলে ফেলে। এটা পৃথিবীর একমাত্র জায়গা যেখানে এই প্রজাতির সাপ বাস করে। সাপের উপদ্রপের কারণে এই দ্বীপে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। অনেকেই বীরত্ব দেখাতে গিয়ে দ্বীপ থেকে আর ফিরে আসতে পারে নি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু হওয়ার কারণে আর পাশাপাশি অন্য কোন দ্বীপ না থাকায় এ দ্বীপটিতে এক প্রকার নির্বাসিত অবস্থায় আছে সাপগুলো। তাই হয়তো বিস্তৃর্ণ এ দ্বীপে আর কাউকে সহ্য করে না সাপগুলো।

#জিনিউজ

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
shared on wplocker.com