সাম্প্রতিক সংবাদ

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ওপর নিপীড়ন সরকারের জন্য বুমেরাং হবে

98133_113

বিডি নীয়ালা নিউজ(২ই মার্চ১৬)-নিজস্ব প্রতিবেদনঃ  সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে সাময়িক নিরাপদ ভাবলেও চূড়ান্তভাবে স্বৈর-সরকারের জন্য তা বুমেরাং হবে। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা দিয়ে, জেলে আটকে রেখে গণমাধ্যমে ভীতি ছড়ানোর যে অপকৌশল সরকার নিয়েছে তার পরিনাম শুভ হবে না। সরকারের অপকর্ম প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়েই নির্ভীক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ সব মামলায় জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি না দিয়ে শ্যোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে ভূলুন্ঠিত করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শওকত মাহমুদ ও মাহমুদর রহমানের শ্যোন অ্যারেস্টের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন হারুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজে’র সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজে’র সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক নেতা কায়কোবাদ মিলন, আবদুস সেলিম, সাখাওয়াত ইবনে মইন চৌধুরী, এইচ এম আল-আমিন প্রমূখ। বিক্ষোভ সমাবেশ পরিচালনা করেন ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত ।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, সরকার শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমানের ওপর সীমাহীন জুলুম করছে। বিনা অপরাধে জেলে বন্দি করে রেখেছে। তিনি বলেন, শওকত মাহমুদ কোনো চোর-ডাকাত নন। তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচিত নেতা। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাকে যেভাবে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় মাসের ও মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট করে সরকার তার প্রতি চরম জুলুম করছে। এর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ রুখে দাঁড়াবে। এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা মৃত্যুকে পরোয়া করিনা। প্রয়োজনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য জীবন দেব।
বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ সব মামলায় জামিন ও জামিননামা কারাগারে পৌঁছা সত্ত্বেও শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি না দেয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা আজ শওকত মাহমুদের সংবর্ধনার আয়োজন করার কথা। সব মামলায় আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়ে গতকাল বিকেলেই তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন বছর আগের ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এক রাজনৈতিক মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট করে সরকার দেউলিয়াত্বের প্রমান দিয়েছে। একইভাবে নির্ভিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে শ্যোন অ্যারেস্ট করে মুক্তি আটকে দেয়া হয়ছে। দেশে আইনের শাসন থাকলে এমন অবস্থা কল্পনাও করা যায় না। বর্তমানে দেশে জঙ্গলের শাসন কায়েম হয়েছে বলে মন্তব্য করে এম আবদুল্লাহ বলেন, ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা করে তাকে গ্রেফতার ও হয়রানির অপচেষ্টা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষায় সারা দেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এম আবদুল্লাহ মার্চ মাসজুড়ে সারা দেশে বিএফইউজে’র অঙ্গ ইউনিয়নে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
কবি আবদুল হাই শিকদার দেশে আওয়ামী জাহেলিয়াত চলছে বলে উল্লেখ করে বলেন, যাদের ফাঁসি হওয়ার কথা কিংবা কমপক্ষে জেলে থাকার কথা তারা এখন ক্ষমতার মসনদে। গণমাধ্যমকে টার্গেট করে তারা ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায়। দেশের বিরোধী দল যদি মেরুদন্ডহীন ও নপুংশক না হতো তাহলে গণআন্দোলনে এ ফ্যাসিস্ট সরকার অনেক আগেই ভেসে যেত। তিনি অবিলম্বে শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি না দিলে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এমএ আজিজ বলেন, শওকত মাহমুদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা কোন খুনী ও দাগী আসামীর সঙ্গেও করা যায় না। তার অপরাধ তিনি সাংবাদিকদের রুটিরুজির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সোচ্চার ছিলেন। সে কারণেই সরকারের ভয়। তাকে মুক্তি দিলে সরকারের অপকর্ম বাধাগ্রস্ত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শামসুদ্দিন হারুন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। তারা গণমাধ্যম দলন ও নিপীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এটা তাদের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনবে। মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদকে মুক্তি না দিলে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
সূত্র : প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
shared on wplocker.com