সাম্প্রতিক সংবাদ

রসগোল্লা নিয়ে বিতর্ক!

rosogolla

বিডি নীয়ালা নিউজ(৯ই মার্চ১৬)-অনলাইন প্রতিবেদনঃ ভারতের রসগোল্লার আবিষ্কারক কে, তা নিয়ে ওড়িশা আর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

ওড়িশার দাবি, শত শত বছর ধরে পুরির জগন্নাথ মন্দিরে দেবতার ভোগে রসগোল্লা ভোগ দেয়া হচ্ছে।

তবে কলকাতার দাবি, রসগোল্লা সেখানেই তৈরি হয়েছে।

ভারতের সবচেয়ে বড় মন্দিরগুলোর একটি, পুরির জগন্নাথ মন্দিরের সামনে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করে। সম্প্রতি এই মন্দিরটি ভিন্ন কারণে সবার আলোচনায় এসেছে।

কারণ হলো রসগোল্লা নিয়ে বিতর্ক।

ওড়িশা দাবি করছে, রসগোল্লা তারাই আবিষ্কার করেছে, কারণ শত শত বছর ধরে এই মন্দিরের দেবতাদের ভোগে রসগোল্লা দেয়া হচ্ছে।

মন্দিরের মুখপাত্র, সুধীর চ্যাটার্জি সে কথাই বলছেন। মি:চ্যাটার্জি বলছেন, “প্রতিবছরে অন্তত একবার দেবতার উদ্দেশ্যে এই রসগোল্লা দেয়া হয়। যখন জগমোহনকে এখানে নিয়ে আসা হয় এবং যখন তাকে আবার ফিরিয়ে নেয়া হয়, সে সময় তার সামনে এই মিষ্টি দেয়া হয়”।

কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্যের রাজধানী কলকাতার দাবি, রসগোল্লার আসল আবিষ্কারক তারাই। কারণ সেখানেও বহু বছর ধরে রসগোল্লা বিক্রি করা হচ্ছে, মানুষ এটি খেয়ে আসছে।

কলকাতার কে সি দাস পরিবারের দাবি, এটির আসল আবিষ্কারক আসলে তারাই।

উত্তর কলকাতার বাড়িতে বসে রসগোল্লার সেই গল্পই বলছেন দিমেন দাস।

“আমরা মনে করি, রসগোল্লা মানেই ভারত। এটা ভারতের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির একটি অংশ, ভারতের জাতীয় মিষ্টিও বলা চলে। অনেক দিন আগে, এটা নবীন চন্দ্র দাস নামের আমার একজন পূর্বপুরুষ আবিষ্কার করেন। মানুষজন তার কাছে এমন মিষ্টি খেতে চাইত, যা তাদের তৃষ্ণাও মেটাবে। তিনবছর চেষ্টা করে তিনি রসগোল্লা তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন”।

ওড়িশার রসগোল্লা তাদের মতো নয়, স্বাদে গন্ধে বা সেগুলোর উপাদানও এক নয়।

তাই তাদের দাবির কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না দিমেন দাস।

তবে রসগোল্লার এই বিরোধে একটি বিষয় পরিস্কার- ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

অনেক স্বাধীন দেশের মতো, ভারতের অনেক রাজ্যই এখন অনেক জিনিসের অধিকার নিজেদের করে রাখতে চায়।

অর্থনীতি আর ব্যবসা বিশ্লেষক মুগ্ধ পাতারিয়া বলেন “ভারত আসলে একটি মাত্র বাজার নয়, এখানে অনেক বাজার তৈরি হয়েছে। এটা এমন নয় যে, ভারতই শুধু বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। ভারতের ভেতরেও প্রতিযোগিতা চলছে”।

ভারতীয় আইনের শ্লথগতির কারণে, রসগোল্লা আবিষ্কারের কৃত্বিত্ব কে পাবে, তা নিয়ে হয়তো দীর্ঘদিন ধরেই আইনি লড়াই চলবে।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ভারতে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতার কারণে, দেশটির রাজ্যগুলোকে হয়তো আরো অনেক বিষয়েই পরস্পরের মুখোমুখি হতে হবে।

 

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা ।

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
shared on wplocker.com