সাম্প্রতিক সংবাদ

বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও ভোটকারচুপির মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জে ২২ ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত ॥ প্রিজাইডিং অফিসারের কারাদন্ড ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন

DSC02899

বিডি নীয়ালা নিউজ(২৩ই এপ্রিল১৬) মারুফ সরকার (বিভাগীয় প্রতিনিধিরাজশাহী):  তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৫টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ২৭২টি কেন্দ্রের অনেক ভোট কেন্দ্র এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও ভোটকারচুপির মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩৫ জন। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুস সবুর খান(৫০) কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

দুপুরে ওই কেন্দ্রে ভোট চলাকালে তিনি গোপনে ব্যালেট পেপারে সিল দেয়ার অভিযোগে এক মেম্বর প্রার্থীর লোকজন তাকে ব্যালট পেপারসহ আটক করে। পরে বিকেলে ৫টার দিকে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফারাহ নাজ আহমদ তাকে এই কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। বেলকুচি থানার ওসি আনিসুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের একটি ভোট কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মেরেছে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টরা। এ ইউনিয়নের পঞ্চসারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালেট পেপারে সিল মেরে ভোট নেয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ কেন্দ্রের ৫টি বুথের কোথাও বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীর (ধানের শীষ) এজেন্টদের দেখা মেলেনি। কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রমজান আলী বলেন, বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর (ধানের শীষ) এজেন্ট ভোট শুরু থেকেই আসেননি। এদিকে বিভিন্ন অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউপির বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল খালেক তোতা এবং চৌহালীর বাঘুটিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী শুকুর মাহমুদ ভোট বর্জন করেছেন। তারা শনিবার দুপুর আড়াই টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবী করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

তারা জানান, সকালে ভোট শুরুর পর আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে ব্যালট পেপার ভোটারদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নৌকায় সিল মেরে নেয়। এজন্য এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবী জানিয়ে তিনি নির্বাচন বর্জন করেন। সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ, তাড়াশ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নসহ এই ৫টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কেন্দ্রে শুরু হয় ভোটকারচুপি।

এদিকে বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কদমতলী কেন্দ্রে ২ মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয় কমপক্ষে ১০জন। এ সময় আধা ঘন্টা ভোট গ্রহন স্থগিত থাকে। পরে ম্যাজিষ্ট্রেট, বিজিবি, পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলে পুনরায় ভোট গ্রহন শুরু হয়।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রে মেম্বর প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ৩টি ব্যালট বই ছিনতাই করে জোরপূর্বক সিলমারার সময় প্রতিপক্ষের সাথে সহিংসতার সৃষ্টি হলে ভোট কেন্দ্র দেড় ঘন্টা স্থগিত থাকে। পরে প্রশাসনের সহযোগীতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভোট গ্রহন পুনরায় শুরু করা হয়। এ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট তাসলিমা মোস্তারী জানান, সকাল সাড়ে ৯টার সময় এই কেন্দ্রে প্রবেশ করে মোরগ প্রতিকের মেম্বর প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন জোরপূর্বক ৩টি ব্যালট বই ছিনতাই করে তাতে সিল মারছিলেন। এসময় প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকেরা বিষয়টি জানতে পেরে লাটিসোঁটা নিয়ে সেখানে গেলে পরিস্থিতি উতপ্ত হলে ভোট গ্রহন স্থগিত হয়ে যায়। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং ব্যালট বই ৩টি বাতিল করে সাড়ে ১০টার দিকে ভোট গ্রহন শুরু করা হয়। বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আদাচাকী কেন্দ্রে জোরপূর্বক ভোট কেটে নেবার সময় আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের ধাওয়া করে। পরে বিক্ষুব্ধরা সেখানে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের গাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়লে গাড়ীর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এসকল ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন কেন্দ্রে জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল করে ভোট ছিনিয়ে নেবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রশাসনের তাৎক্ষনিক হস্তক্ষেপে এ সকল এলাকায় বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কামরখন্দ উপজেলার চৈরগাতী হাই স্কুল কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সফি খান আনারস প্রতিক ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে ২ মহিলাসহ ১২ জন আহত হয়। সংঘর্ষের কারণে এ কেন্দ্রে ভোট গ্রহন স্থগিত করা হয়। প্রায় সোয়া ঘন্টা পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় ভোট গ্রহন শুরু করা হয়। একই উপজেলার বৈদ্য দোগাচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র ও মধ্য ভদ্রঘাট ভোট কেন্দ্রের বাইরে এক সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১৩ জন। এছাড়া তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ভোট কারচুপি ও অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ, ওই ৫টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের ২৭জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ৯৭২জন মেম্বর প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। কেন্দ্র সমূহে ভোট গণনা শুরু হলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া যায়নি।

 

 

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
shared on wplocker.com