সাম্প্রতিক সংবাদ

জিরা মেশানো পানি পান করেই দেখুন!

 

 ডেস্ক রিপোর্টঃ জিরা মেশানো পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন, অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজ, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল এবং নানা সব উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। আগে বিস্তারিত দেখুন; সবার শেষে পাবেন জিরা পানি বানানোর নিয়ম!

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় : রোজের ডায়েটে এই পানীয়টিকে জায়গা করে দিলে ত্বকের ভেতরে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়াম, কপার এবং ম্যাঙ্গানিজের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে স্কিনের ভেতরে উপস্থিত টক্সিক উপদানেরা বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে ত্বকের বয়স তো কমেই, সেই সঙ্গে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে : নিয়মিত জিরা পানি পান করলে শরীরের ভেতরে ডায়াজেস্টিভ এনাজাইমের উৎপাদন বেড়ে যায়, সেই সঙ্গে লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরাও শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : এক গ্লাস পানিতে পরিমাণ মতো জিরা ভিজিয়ে সেই পানি পান করা শুরু করুন, দেখবেন কব্জি ডুবিয়ে খেলেও এবার থেকে আর অম্বল হবে না। জিরার মধ্যে একাদিক উপাকারি উপাদান একদিকে যেমন হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়, তেমনি অন্যদিকে হজমে সহায়ক এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বদ-হজম হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে : জিরায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর মেটাবলিজম রেট বাড়িয়ে দেয়। ফলে খাবার এত সুন্দরভাবে হজম হতে শুরু করে যে ওজন বাড়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। ফাইবার আরেকভাবেও ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। আর কম খাবার খাওয়া মানে ওজনও কমে যাওয়া।

শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় : নিয়মিত জিরা পানি পান করলে শরীরে পানির ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে শরীর শুকিয়ে গিয়ে কোনও ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। শরীরকে ডিহাইড্রেট করার পাশাপাশি আরও একটা কাজ করে থাকে জিরা, তা হল মশলাটি খাওয়া মাত্র দেহের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক হতে শুরু করে। ফলে শরীরে লিকুইড ব্যালেন্স ঠিক থাকে। সেই সঙ্গে শরীর ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায় : জিরায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা রক্তের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আর একবার শরীরে লহিত রক্ত কমিকার মাত্রা বেড়ে গেলে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে পালায় : নিয়মিত সকাল বেলা খালি পেটে জিরে ভেজানো পানি পান করলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে : প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করে জিরা পানি পান করার অভ্যাস করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স যেমন ঠিক হয়ে যায়, তেমনি পটাশিয়ামের ঘাটতিও দূর হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্লাড প্রেসার কমতে শুরু করে। পটাশিয়াম, শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখার মাধ্যমে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে থাকে।

রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : জিরায় থাকা আয়রন শরীরে প্রবেশ করার পর লহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতিও দূর করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

কীভাবে বানাতে হবে জিরা পানি?
একটা পাত্রে পরিমাণ মতো পানি এবং জিরা নিয়ে পানিটা কম করে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর পানিটা ছেঁকে নিয়ে তাতে অল্প করে মধু মুশিয়ে ঝটপট খেয়ে ফলতে হবে।

K/K/N.

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
shared on wplocker.com